Constitution

সংগঠনের গঠনতন্ত্র

স্বপ্নপূরণ অর্গানাইজেশনের নীতিমালা ও পরিচালনা কাঠামো

স্বপ্নপূরণ অর্গানাইজেশন · প্রতিষ্ঠা ২০২১

অফিসিয়াল দলিল

গঠনতন্ত্র

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম


স্বপ্নপূরণ অর্গানাইজেশন

For The People, By The People

কেন্দ্রীয় কার্যালয়ঃ ইসলামবাগ, পঞ্চগড় · স্থাপিতঃ ৩০ এপ্রিল, ২০২১

স্মারক নং: রফ — ২০২১তারিখ: ২১/০৬/২০২১ ইংগঠনতন্ত্র

১। নামকরণ

এই সংগঠন সংক্ষেপে স্বপ্নপূরণ অর্গানাইজেশন, ইংরেজিতে Shwapnopuron Organization নামে অভিহিত। পুরো নাম স্বপ্নপূরণ অর্গানাইজেশন।


২। স্লোগান

সংগঠনের স্লোগান — “For The People, By The People.”


৩। প্রতিষ্ঠা

স্বপ্নপূরণ অর্গানাইজেশন একটি অরাজনীতিক সামাজিক সংগঠন। এই সংগঠন ৩০/০৪/২০২১ ইং তারিখে পঞ্চগড় জেলায় প্রতিষ্ঠিত হয়।


৪। কার্যালয়

সংগঠনের কার্যালয়: স্বপ্নপূরণ অর্গানাইজেশন, গ্রাম: ইসলামবাগ, ডাকঘর: পঞ্চগড়, উপজেলা: পঞ্চগড় সদর, জেলা: পঞ্চগড়।


৫। মনোগ্রাম

সংগঠনের নিজস্ব মনোগ্রাম থাকবে।


৬। সংগঠনের ধরণ

স্বপ্নপূরণ অর্গানাইজেশন সম্পূর্ণ স্বাধীন, সামাজিক, অরাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবী ও অসাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন সংগঠন।


৭। লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

ক. স্বপ্নপূরণ অর্গানাইজেশন প্রধানত স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রচেষ্টা করবে।

খ. দেশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন জনগণকে, বিশেষত তরুণ সমাজকে সংগঠিত করবে।

গ. শিক্ষা উন্নয়ন ও প্রসারে কাজ করবে।

ঘ. স্বাস্থ্য সচেতনতায় কাজ করবে।

ঙ. যে কোনো অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে।

চ. সবসময় সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষদের পাশে থাকবে।

ছ. তৃতীয় লিঙ্গ তথা হিজরাদের নিয়ে কাজ করবে।

জ. এতিম শিশুদের নিয়ে কাজ করবে।

ঝ. পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

ঞ. মুক্তিযুদ্ধ, সাহিত্য, ক্রীড়া, বিনোদনসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কাজে সহযোগিতা ও উৎসাহ প্রদান করবে।

ট. শিক্ষা, প্রযুক্তি, ক্যারিয়ার ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে দিকনির্দেশনা প্রদানে কাজ করবে।

ঠ. আত্মহত্যা প্রতিরোধ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করবে।

ড. শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও সেমিনারের আয়োজন করবে।

ঢ. গুণীজনদের সংবর্ধিত করবে।

ণ. দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল তরুণদের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করবে।


৮। সদস্য

ক. কেবলমাত্র জন্মসূত্রে বাংলাদেশী এবং সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ও গঠনতন্ত্রের সাথে সমমনা, উৎসাহী কর্মীগণ এ সংগঠনের সদস্য হতে পারবে।

খ. সদস্য হওয়ার নূন্যতম বয়স ১২ বছর।

গ. ভদ্র, রুচিশীল, উদ্যমী, সদাচারী হতে হবে এবং নিজ নিজ ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে হবে।

ঘ. যারা স্বেচ্ছাসেবায় আগ্রহী এবং নিজের তথা দেশের ও এলাকার উন্নয়নে কাজ করার লক্ষ্যে সমাজ-উন্নয়নমূলক বিভিন্ন সৃজনশীল কাজে সম্পৃক্ত কিংবা সম্পৃক্ত হতে ইচ্ছুক এবং নৈতিকতাবিরোধী কোনো কার্যক্রমে লিপ্ত নয়।


৯। সদস্যের শ্রেণীবিভাগ

নিম্নরূপ চার প্রকারের সদস্য থাকবে —

১. সাধারণ সদস্য: দেশের যে কোনো নাগরিক কমপক্ষে ৫০ টাকা প্রদান সাপেক্ষে ফরম পূরণের মাধ্যমে সাধারণ সদস্য হতে পারবেন।

২. সহযোগী সদস্য: প্রবাসী বাংলাদেশিরা কমপক্ষে ৫০০ টাকা প্রদান সাপেক্ষে ফরম পূরণের মাধ্যমে সহযোগী সদস্য হতে পারবেন।

৩. সম্মানিত সদস্য: স্ব স্ব ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কোনো ব্যক্তিকে নির্বাহী পরিষদের অনুমোদনক্রমে সম্মানিত সদস্য পদ প্রদান করা হবে।

৪. আজীবন সদস্য: এককালীন ৫০০০ টাকা প্রদান সাপেক্ষে ফরম পূরণের মাধ্যমে যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি সংগঠনের আজীবন সদস্য হতে পারবেন।


১০। সদস্যপদ বাতিল / স্থগিতের নিয়মাবলি

ক. যদি কোনো সদস্য স্বেচ্ছায় সঠিক ও উপযুক্ত কারণ দর্শনপূর্বক লিখিত আকারে পদত্যাগ করেন।

খ. যদি মানসিক ভারসাম্য হারান।

গ. যদি সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও স্বার্থের পরিপন্থী কোনো কাজ করেন, কিংবা তার স্বভাব-আচার-আচরণ সংস্থার পরিপন্থী হয়।

ঘ. কোনো সদস্য সমাজ ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত হলে।

ঙ. মৃত্যু হলে, মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটলে, অথবা আদালত কর্তৃক অপরাধমূলক সাজা হলে।

চ. যদি দায়িত্ব ও কর্তব্য যথারীতি পালন না করেন বা সংগঠনের কাজে নিষ্ক্রিয় ও অকর্মণ্য হয়ে পড়েন।

ছ. প্রাসঙ্গিক কারণে কোনো সদস্যকে বহিষ্কারের এখতিয়ার সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটি রাখে; সে ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জ. ক্রমান্বয়ে তিন মাসের অধিক মাসিক চাঁদা প্রদান না করলে এবং ক্রমান্বয়ে তিনটি ইভেন্টে অংশগ্রহণ না করলে।


১১। সাংগঠনিক কাঠামো

সংগঠনের চার স্তর বিশিষ্ট সাংগঠনিক কাঠামো নিম্নরূপ —

১. উপদেষ্টা পরিষদ

২. গভর্নিং বোর্ড মেম্বার

৩. নির্বাহী পরিষদ

৪. সদস্য

৫. প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য


উপদেষ্টা পরিষদ গঠন কাঠামো

নির্বাহী পরিষদ প্রয়োজনবোধে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে, এক বা একাধিক বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে, গঠনমূলক পরামর্শ গ্রহণের জন্য সাত থেকে একুশ সদস্যবিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করতে পারবেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ উপদেষ্টা পরিষদের অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। উপদেষ্টাগণ নির্বাহী পরিষদের আমন্ত্রণক্রমে সংগঠনের সুনির্দিষ্ট বিশেষ উপদেশ বা পরামর্শ প্রদান করবেন। নির্বাহী পরিষদ উপদেষ্টা পরিষদ বিলুপ্ত করতে পারবেন।

কার্যনির্বাহী পরিষদের গঠন কাঠামো

১. সভাপতি — ১ জন

২. সহ-সভাপতি — ১ জন

৩. সাধারণ সম্পাদক — ১ জন

৪. সাংগঠনিক সম্পাদক — ১ জন

৫. দপ্তর সম্পাদক — ১ জন

৬. কোষাধ্যক্ষ — ১ জন

৭. প্রচার ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক — ১ জন

৮. মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক — ১ জন

৯. নির্বাহী সদস্য — ৩ জন


১২। প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য

২৩/০৪/২০২১ খ্রিঃ তারিখের সভায় যারা উপস্থিত ছিলেন সবাই প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য বলে বিবেচিত হবেন। নিম্নে বর্ণিত ব্যক্তিবর্গ সংগঠনের উদ্যোক্তা সদস্য হিসেবে বিবেচিত হবেন —

১. মোঃ মখলেছার রহমান মুন্না

২. মোঃ কামাল হোসেন

৩. মোঃ রেজওয়ানুল হক রেজা

৪. মোঃ আব্দুর রহমান রিফাত

৫. মোছাঃ সায়েদা আক্তার সাম্মী

৬. আবু হেনা মোস্তফা কামাল আবির

৭. মোঃ আসাদ অংকন

৮. মোঃ রেজওয়ানুল হক রাজু


১৩। কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ ও নির্বাচন

১. মেয়াদ: কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ ১ বছর।

২. নির্বাচন: বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কমপক্ষে ১ মাস আগে পরবর্তী কমিটি নির্বাচন করতে হবে এবং নির্বাচন-পরবর্তী সভায় বর্তমান কমিটি তাদের নিকট সবকিছু বুঝিয়ে দিবেন।


১৪। পদত্যাগ ও বহিষ্কার

ক. কার্যনির্বাহী কমিটির কোনো সদস্য পদত্যাগ করতে চাইলে কমপক্ষে ১ মাস আগে কমিটি বরাবর লিখিত আকারে জানাবেন। কমিটি পরবর্তী সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিবে।

খ. কার্যনির্বাহী কমিটির কোনো সদস্যের সদস্যপদ বাতিল হলে সে নির্বাহী কমিটি থেকেও বহিষ্কৃত হবে।

গ. কোনো সদস্য নিজ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে এবং কমপক্ষে ৩ বার সতর্ক করার পরও মনোযোগী না হলে, তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা যেতে পারে; কার্যনির্বাহী কমিটির ২/৩ অংশের মতামতের ভিত্তিতে তাকে বহিষ্কার করা হবে।

ঘ. সাধারণ সদস্যদের ২/৩ অংশ কোনো কার্যনির্বাহী সদস্যের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দিলে তাকে বহিষ্কার করা যাবে; তবে অবশ্যই তার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকবে এবং কমিটির অধিকাংশের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ঙ. এমন ক্ষেত্রে উপদেষ্টা পরিষদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে হবে; সাধারণ সদস্যদের মতামতের প্রতি যথাযথ সম্মান দিতে হবে।


১৫। দায়িত্ব ও কার্যাবলি

ক. সভাপতি

১. সংগঠনের প্রধান হিসেবে বিবেচিত হবেন।

২. সংগঠনের সকল সভায় সভাপতিত্ব করবেন।

৩. সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন।

৪. সভা পরিচালনার পূর্ণ দায়িত্বে থাকবেন।

৫. সংগঠনের স্বার্থে ও কল্যাণে যে কোনো প্রকার দায়িত্ব পালন করবেন।

৬. কোনো সভায় সম-সংখ্যক ভোট পড়লে সভাপতি একটি কাস্টিং ভোট প্রদান করবেন।

৭. বিশেষ প্রয়োজনে জরুরি সভা আহ্বান করবেন।

৮. নির্বাহী পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সংগঠনের করণীয় ও কার্যাবলী নির্ধারণ করবেন।


খ. সহ-সভাপতি

১. সভাপতির সকল কাজে সহযোগিতা করবেন।

২. সভাপতির অনুপস্থিতিতে সভায় সভাপতিত্ব করবেন।

৩. সংগঠনের উপ-নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন।

৪. সভাপতির মতোই গঠনতন্ত্র অনুসারে সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন।


গ. সাধারণ সম্পাদক

১. অফিস নির্বাহী হবেন; নির্বাহী পরিষদের নিকট সংগঠনের কার্য সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য দায়ী থাকবেন।

২. সকল প্রকার যোগাযোগ, চিঠি লেখা ও চিঠিপত্র ইস্যুর ক্ষেত্রে তিনি স্বাক্ষর প্রদান করবেন।

৩. সংগঠনের কার্যক্রম, কর্মসূচি ও প্রকল্প প্রস্তাবনা ও বাস্তবায়ন এবং নির্বাহী পরিষদের সদস্যদের সাথে সমন্বয় সাধন করবেন।

৪. সংগঠনের সকল প্রকার চিঠিপত্র, কাগজপত্র, তথ্য ও দলিল রক্ষণাবেক্ষণ করবেন।

৫. প্রশাসন, প্রকল্প তৈরি ও বাজেট তৈরির কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও মূল্যায়নে সহযোগিতা করবেন।

৬. সুষ্ঠু প্রশাসনের স্বার্থে খণ্ডকালীন কর্মচারী নিয়োগ, কর্মচুক্তি ও ছাঁটাইয়ের চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী হবেন; তবে কার্যনির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্তক্রমে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

৭. সকল ধরনের সভার কার্যবিবরণী লিপিবদ্ধ রাখার ব্যবস্থা করবেন।

৮. সকল নির্বাহী ও সাধারণ সদস্যের সাথে যোগাযোগ, আলাপ-আলোচনা ও পরামর্শ বজায় রাখবেন; বার্ষিক রিপোর্ট ও বাজেট পেশ করবেন।

৯. সভাপতির সাথে আলোচনা করে সভা আহ্বানের দিন, তারিখ, সময় ও স্থান নির্ধারণসহ আলোচ্যসূচি উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি বিতরণের ব্যবস্থা করবেন।

১০. অর্থ সম্পাদক কর্তৃক মাসিক, ত্রৈমাসিক ও বার্ষিক জমা-খরচের হিসাব প্রস্তুত করিয়ে নিবেন এবং যথাযথ সভায় অনুমোদন ও পেশের ব্যবস্থা নিবেন।

১১. নির্বাহী পরিষদ কর্তৃক অর্পিত যে কোনো দায়িত্ব পালন করবেন।


ঘ. সাংগঠনিক সম্পাদক

১. সংগঠনের কার্যক্রমকে গতিশীল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

২. কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিলে কারণ নির্ণয় করে সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকের সাথে আলোচনাপূর্বক করণীয় নির্ধারণ করবেন।

৩. কোনো সদস্যের অনুপস্থিতি বা সংগঠনের স্বার্থবিরোধী কাজ নির্ণয় করে সংগঠনের স্বার্থে সবাইকে তা অবহিত করবেন।

৪. সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য সর্বদা নিয়োজিত থাকবেন।

৫. সংগঠন কোনো হুমকির শিকার হলে সেটি সভাপতিকে অবগত করবেন।

৬. সংগঠনের শৃঙ্খলা ও প্রসার ঘটানোর জন্য নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে কাজ করাই তার প্রধান কাজ।

৭. সংগঠনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করবেন।


ঙ. প্রচার ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক

১. ঘোষিত প্রচারপত্র, পোস্টার ও বক্তব্য সদস্যদের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া প্রচার সম্পাদকের কাজ।

২. সকল প্রকার প্রকাশনার ডিজাইন, তথ্য সংগ্রহ ও গ্রুপ তদারকি সম্পন্ন করবেন।

৩. বাহ্যিক প্রচারে বেশি গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব নির্বাহী সভায় উপস্থাপন করবেন।

৪. প্রয়োজন অনুযায়ী সংবাদ সম্মেলন ও গোলটেবিল আলোচনার ব্যবস্থা করবেন।

৫. অনুষ্ঠান বা কার্যক্রমের সময় সারা জেলাময় প্রচারের ব্যবস্থা করা এবং তা যথাযথভাবে হচ্ছে কিনা খতিয়ে দেখবেন।

৬. বিভিন্ন সামাজিক গণমাধ্যমে সংগঠনের প্রচারণার দায়িত্বও তার অধীন।

৭. সংগঠনের বিভিন্ন খবর পত্রিকায় প্রকাশের ব্যবস্থা করা তার দায়িত্ব।

৮. সমাজের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা উপকরণ নিয়ে কাজ করবেন।

৯. ২-৩ মাস অন্তর একটি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবেন এবং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ করবেন।


চ. অর্থ সম্পাদক

১. আয়-ব্যয়ের সঠিক হিসাব রাখা এবং সংগৃহীত অর্থ যাতে সংগঠনের স্বার্থে ব্যয় হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা অর্থ সম্পাদকের মূল কাজ।

২. সদস্যদের হতে মাসিক ফি সংগ্রহ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গ হতে অনুদান গ্রহণ তার দায়িত্ব।

৩. সংগঠনের অর্থের ভবিষ্যৎ উৎস চিহ্নিত করে নির্বাহী পরিষদের সভায় পেশ করবেন।

৪. বার্ষিক অর্থনৈতিক রিপোর্ট তৈরি করে অনুমোদনের জন্য বার্ষিক সভায় পেশ করবেন।

৫. সংগঠনের সকল প্রকার আর্থিক বিষয়ে দায়িত্ব পালন করবেন।

৬. সংগঠনের তহবিল বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবেন।

৭. জমা-খরচের হিসাব-নিকাশ সংক্রান্ত যাবতীয় ব্যাপারে অর্থ সম্পাদক সাধারণভাবে দায়ী থাকবেন।


ছ. দপ্তর সম্পাদক

১. সংগঠনের সমস্ত তথ্য, রিপোর্ট, চিঠিপত্র, দপ্তর ও সংস্থাপন সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় সংরক্ষণ করবেন।

২. সকল সভা/কার্যদিবসের নোটিশ সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকের অনুমতি সাপেক্ষে সকল সদস্যকে অবহিত করবেন।

৩. বিভিন্ন সভা/অনুষ্ঠানে আগত ব্যক্তি/অতিথিদের বক্তব্য ও মতামত লিপিবদ্ধ করে প্রেস রিলিজ আকারে জনসম্মুখে প্রকাশ করবেন।

৪. সংগঠনের সকল প্রকার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি নিজ দায়িত্বে সংরক্ষণ করবেন।


জ. মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক

১. দুস্থ, নিরক্ষর, অসহায় ও নির্যাতিত মহিলাদের সংগঠিত করবেন এবং তাদের সম্পর্কে পরিষদকে অবহিত করবেন।

২. হিজরা ও শিশুদের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সম্পর্কে কার্যনির্বাহী পরিষদকে অবহিত করবেন।

৩. কার্যনির্বাহী পরিষদ কর্তৃক মহিলা বিষয়ক গৃহীত যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব তার উপর ন্যস্ত থাকবে।


ঝ. নির্বাহী সদস্য

১. সাংগঠনিক যে কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন।

২. কার্যনির্বাহী কমিটির সকল কাজে অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা করা সদস্যদের প্রধান কাজ।

৩. যে কোনো সদস্য সংগঠনের স্বার্থে তার মতামত নির্বাহী পরিষদের সভায় উপস্থাপন করবেন।

৪. বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটিতে থাকা ও কাজ করা।

৫. মাসিক সভায় উপস্থিত থাকা ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সহায়তা করা।


১৬। অন্যান্য

১. সংগঠনের সকল সদস্যের বিপদে-আপদে নির্বাহী পরিষদসহ সবাই পাশে থাকার চেষ্টা করবে।

২. সংগঠনের সকল সদস্য সংগঠনের উন্নয়নে সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।

৩. নির্বাহী পরিষদসহ সকল সদস্যকে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করার অঙ্গীকারবদ্ধ থাকতে হবে।

৪. কোনো অভিযোগ, অনুযোগ বা পরামর্শের জন্য নির্বাহী পরিষদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

৫. সদস্যদের মধ্যে কোনো অভ্যন্তরীণ কোন্দল থাকা যাবে না, যা সংগঠনে বিরূপ প্রভাব ফেলে।


১৭। সংগঠনের তহবিল সংক্রান্ত বিষয়াবলি

ক. শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিঃস্বার্থ একককালীন দান, অনুদান বা সাহায্য তহবিলের উৎস হিসেবে বিবেচিত হবে।

খ. সংগঠন হতে প্রকাশিত পত্রিকা ও ম্যাগাজিন বিক্রয় হতে প্রাপ্ত অর্থ তহবিলে যোগ হবে।

গ. সরকারি অনুদান বা অন্য যে কোনো শুভ উপায়ে অর্জিত অর্থ তহবিলে যোগ হবে।

ঘ. যথাযোগ্য রশিদ ছাড়া এবং কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত ব্যতীত অত্র সংগঠনের নামে কোনো চাঁদা গ্রহণ করা যাবে না। তহবিলের সুবিধার্থে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও অর্থ সম্পাদকের যৌথ স্বাক্ষরে যে কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকে একটি হিসাব খোলা যেতে পারে; তবে যে কোনো দুইজনের স্বাক্ষরে টাকা উত্তোলন করা যাবে।


১৮। সদস্যদের মাসিক চাঁদা

ক. প্রত্যেক মাসে অন্তত ৪০ টাকা হারে চাঁদা দিতে হবে।

খ. পরপর ৩ মাস চাঁদা না দিয়ে থাকলে ৩ মাসের বকেয়া বাবদ ১৫০ টাকা প্রদান করতে হবে।


১৯। গঠনতন্ত্র পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন ও বিয়োজন

সময়ের প্রয়োজনে যদি গঠনতন্ত্র পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন বা বিয়োজনের প্রয়োজন হয়, তবে কার্যনির্বাহী পরিষদের ২/৩ অংশের মতামতের ভিত্তিতে তা করা যাবে। প্রয়োজনে সাধারণ সদস্যদের মতামত নেওয়া যেতে পারে এবং সংশোধন কমিটি গঠন করা যেতে পারে।


২০। কার্যকরী কমিটির সভা

সাধারণ সম্পাদক সভাপতির পরামর্শক্রমে যে কোনো সময় সভা আহ্বান করবেন। তবে দুইটি সভার মধ্যে ৩ মাসের বেশি ব্যবধান হতে পারবে না।


২১। অনুষ্ঠানাদি

বিভিন্ন দিবস উদযাপন এবং সম্ভব হলে বছরে একটি করে বনভোজন, নবীন বরণ, ইফতার মাহফিল ইত্যাদি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। তবে পারস্পরিক পরিচিতি, বন্ধন ও ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টিই অনুষ্ঠানাদির মূল লক্ষ্য বলে বিবেচিত হবে।


২২। বিবিধ

নির্বাহী পরিষদের বিবেচনায়, সংগঠনের কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সরল বিশ্বাসে কৃত কোনো কাজের জন্য কোনো সদস্য/কর্মকর্তা দেওয়ানি বা ফৌজদারি মোকদ্দমার সম্মুখীন হলে অথবা কোনো ধরনের বিপদে পড়লে, সংগঠন তাকে আর্থিক সহায়তাসহ প্রয়োজনীয় সকল প্রকার সহায়তা প্রদান করবে।